শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন
তরুণ নির্মাতা রাশিদ পলাশ এখন আলোচনায়। মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার লচ্চিত্র ‘পদ্মাপুরান’। চলছে আলোচিত চলচ্চিত্র ‘প্রীতিলতা’র কাজ। এ সিনেমাতেই প্রীতিলতা হয়ে হাজির হচ্ছেন জনপ্রিয় নায়িকা পরীমণি। ইতিমধ্যে ছবিটির কিছু কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শুরু হবে অক্টোবর মাসের শেষ দিকে। রাশিদ পলাশ জানালেন ৮ অক্টোবর মুক্তি পাবে ‘পদ্মাপুরান’। রাশিদ পলাশ বলেন, ‘প্রথমত আমরা সব সিনেমা হল টার্গেট করছি না। দেশের সিনেপ্লক্সসহ ভালো মানের অল্প কিছু হল টার্গেট করছি। ছবিটা একটু শিক্ষিত দর্শকদের জন্য। সবাই ছবিটা বুঝতে পারবে না। ফলে আপাতত শহুরে দর্শকদের জন্যই ছবিটি উন্মুক্ত করতে চাচ্ছি। ঢাকার সিনেপ্লেক্সগুলোতে দেখানোর পর ঢাকার বাইরের বড় হলগুলোতে দেখাব। ওটিটিতে আরও পরে দেব, তার আগে বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের আমরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ছবিটি নিয়ে ঘুরতে চাই।’ ছবিটি কেন দেখবে দর্শক? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথমত এই ধরনের গল্প দর্শক দেখে না। আমরা সবসময় বলি যে আমরা ভিন্ন ধরনের একটা ছবি বানিয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দর্শক সেটা পায় না। কিন্তু আমি কনফিডেন্ট আমি ভিন্ন ঘরানার একটি ছবি বানিয়েছি। দর্শক ছবিটি দেখে কোনোভাবেই হতাশ হবে না। আমি খুবই খুশি যে আমার আর্টিস্টরা দারুণ প্রেজেন্টশেন দিয়েছেন। সবাই সাবলীল অভিনয় করেছেন। এই জায়গায় আমি মনে হয় সার্থক।’
পদ্মাপুরান বেসিক্যালি নদীপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা বদলে যাওয়ার গল্প। দেশের নদীগুলো মরে যেতে থাকলে নদীপাড়ের মানুষের জীবন যেভাবে বদলে গেল ও মানুষের মধ্যে যে হাহাকার শুরু হলো সেই হাহাকারের গল্প এটা। ‘পদ্মাপুরান’-এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাদিয়া মাহি, প্রসূন আজাদ, শম্পা রেজা, জয়রাজ, সুমিত সেনগুপ্ত, কায়েস চৌধুরী, সূচনা শিকদার, রেশমী, হেদায়েত নান্নু, আশরাফুল আশিষ, সাদিয়া তানজিন প্রমুখ। অক্টোবরের শেষ নাগাদ শুরু হবে ‘প্রীতিলতা’ সিনেমার পরবর্তী লটের শ্যুটিং। শ্যুটিং পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে রাশিদ পলাশ বলেন, ‘আমরা চিটাগাংয়ে ২০ দিনের কাজ শুরু করব। আমরা সেখানকার রিয়েল লোকেশনে শ্যুটিংটা করতে চাই। চিটাগাংয়ের ল্যান্ডস্কেপটাকে ধরতে চাই। যদিও ১০০ বছর আগের পরিবেশ ধরতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেট বানাতে হবে। তারপরও আমি কাছাকাছি লোকেশনে থাকতে চাই। রিয়েল লোকেশন তুলে আনতে চাই। প্রীতিলতার নিজের গ্রাম পটিয়ার ধলঘাটেই থাকছি। ওইখানে বিপ্লবীদের ঘাঁটি ছিল। আমরা লাকি যে আমরা ওই জায়গাটাতেই কাজটা করতে পারছি। এই লটে কাজ করলে ৯০ ভাগ কাজ শেষ করতে পারব। প্রীতিলতার জীবনের সবকিছু তুলে আনা সম্ভব নয় এক সিনেমায়। আমরা মূলত তার শিক্ষা জীবন, বিপ্লবী জীবন, ইউরোপিয়ান ক্লাবে আক্রমণ ও আত্মাহুতির ঘটনাবলিকে প্রাধান্য দিচ্ছি।’
এই ছবিতে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে প্রীতিলতা হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম। আপনি প্রীতিলতা হিসেবে জয়া আহসানকে ভাববেন, নুসরাত ইমরোজ তিশাকে ভাববেন কিন্তু পরীমণিকে ভাবতে পারবেন না। আমি আসলে এই চ্যালেঞ্জটাই নিয়েছিলাম, মানুষের ভাবনার জায়গাটায় পরিবর্তন আনতে। পরীমণিকে কাস্ট করার পর আমাদের অনেক কিছু শুনতে হয়েছে। কিন্তু প্রীতিলতার ফাস্ট লুক প্রকাশ করার পর মানুষ কিছুটা হলেও বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। পরীমণিকে সবাই গ্ল্যামারাস লুকে দেখেছে। কিন্তু গ্ল্যামারাস লুকের বাইরে গিয়ে নন-গ্ল্যামার রূপে তাকে হাজির করতে চেয়েছি। আমি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি পরীমণি শুধু নায়িকা নন, একজন অভিনেত্রীও।’ যতটুকু শ্যুটিং হয়েছে তাতে পরীমণি কতটুকু আপনার চিন্তা-ভাবনাকে রূপ দিতে পেরেছেন বলে মনে করেন? জবাবে রাশিদ পলাশ বলেন, ‘শুরুতে আমি কিছুটা ভয়েই ছিলাম। কারণ আগে ওইভাবে তার সঙ্গে দেখা বা আড্ডা হয়নি। ভয় ছিল যে পরীমণি তো নায়িকা তিনি সঠিক সময়ে আসবেন কি না, দেরি করবেন কি না কিন্তু প্রথম দিনেই আমাকে অবাক করে সঠিক সময়ে চলে আসেন। এবং খুব ক্যাজুয়ালি কাজ করা শুরু করেন। পুরো টিমকে আপন করে নেন। আমি দেখেছি পরীমণি দ্রুত ক্যারেক্টারটা বুঝতে পারেন এবং নিজের ভেতর ধারণ করতে পারেন। আমার মনে হয়েছে আমরা ঠিকঠাক ছিলাম। যতদিন কাজ করেছি তাতে আমার কখনোই মনে হয়নি যে পরীমণিকে নিয়ে ভুল করেছি বরং মনে হয়েছে আমরা ঠিকঠাক ছিলাম এবং পারফেক্ট কাস্ট করেছি। আমরা যতটুকু চাই তা পুরো স্বাচ্ছন্দ্যে দিতে পারছেন পরীমণি। পরীমণির গ্রেপ্তারে ও সিনেমার অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া নিয়ে পলাশ বলেন, ‘পরীমণি গ্রেপ্তার হলেও আমি আশাবাদী ছিলাম যে, খুব বেশিদিন তিনি আটক থাকবেন না। সব ঘটনা থেকে মনে হচ্ছিল তাকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি আবার ফিরে আসবেন ও ঠিকমতো কাজ শুরু করবেন। খারাপ লাগত, তার মানসিক অবস্থা শারীরিক অবস্থা নিয়ে। তারপর যখন জামিন পেয়ে বেরিয়ে এলে তার হাসিটা যখন দেখলাম তখন ভালো লাগল, মনে হলো সব ঠিকঠাক আছে। পরী তো পরীই।’